ঢাকা    শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বি এস নিউজ24

পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না হওয়ার কারণে ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে

২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে



২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে
২০ বছরেও মিলেনি পূর্ণাঙ্গ সেবা

পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না দেয়ার কারণে ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে। 

ফেনী প্রতিনিধি, মো শামীম 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনীর মহিপালে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার। তবে নির্মাণের প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার গুরুতর রোগীদের তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আছে।

প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ ২০০৬ সালে শেষ হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

২০২২ সালে নতুন করে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হলেও গুরুতর আহত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ট্রমা সেন্টারে আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সুবিধার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

গুরুতর কোনো দুর্ঘটনার রোগী এলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে দুর্ঘটনার পর সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে অতিরিক্ত সময় লাগার ঝুঁকি থাকে।

জনবল সংকটকে ট্রমা সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মী না থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে জনগণ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফেনীর ওপর দিয়ে যাওয়ায় এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া একজন আহত মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই মহিপাল ট্রমা সেন্টারে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অকেজো যন্ত্রপাতি সচল করা, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা কার্যকর করা এবং সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০ শয্যার এই ট্রমা সেন্টারের অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম আরও নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে সাধারণ মানুষ।

Image

বিষয় : ফেনীর মহিপালে ট্রমা সেন্টার উদ্বোধনের ২০ বছরেও মিলেনি পূর্ণাঙ্গ সেবা

আপনার মতামত লিখুন

বি এস নিউজ24

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ না দেয়ার কারণে ২০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেবা চালু হয়নি ফেনীর মহিপাল ট্রমা সেন্টারে। 

ফেনী প্রতিনিধি, মো শামীম 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনীর মহিপালে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার। তবে নির্মাণের প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার গুরুতর রোগীদের তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আছে।

প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ ২০০৬ সালে শেষ হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

২০২২ সালে নতুন করে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হলেও গুরুতর আহত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ট্রমা সেন্টারে আইসিইউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সুবিধার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

গুরুতর কোনো দুর্ঘটনার রোগী এলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এতে দুর্ঘটনার পর সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসা শুরু করতে অতিরিক্ত সময় লাগার ঝুঁকি থাকে।

জনবল সংকটকে ট্রমা সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মী না থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে জনগণ জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে কেনা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফেনীর ওপর দিয়ে যাওয়ায় এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া একজন আহত মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই মহিপাল ট্রমা সেন্টারে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অকেজো যন্ত্রপাতি সচল করা, অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা কার্যকর করা এবং সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০ শয্যার এই ট্রমা সেন্টারের অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম আরও নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘদিনের সরকারি বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে সাধারণ মানুষ।


বি এস নিউজ24

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শামীম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ বি এস নিউজ24