ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বি এস নিউজ24

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ



পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ। 

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। এরপর রিঅ্যাক্টর, প্রাইমারি সার্কিট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কমিশনিং লাইসেন্সও দেওয়া হয় ।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর। প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে। কমিশনিং পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অবস্থায় নিয়ে গিয়ে এর কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে ।

তবে প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ এবং কমিশনিং শুরু হলেও এর অর্থ এই নয় যে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও কমিশনিংয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হবে ।

এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন সময়সূচি জানানো হয়েছিল। তবে কারিগরি বিষয় ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে নিরাপত্তা ও কারিগরি মান নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ।

রূপপুর প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্পের অর্থায়নের বড় অংশ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ঋণের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের অর্থায়নে করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনবল, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট সঞ্চালনব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা প্রয়োজন ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ এবং কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

Image

বিষয় : পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

বি এস নিউজ24

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে বাংলাদেশ, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ। 

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল। এরপর রিঅ্যাক্টর, প্রাইমারি সার্কিট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কমিশনিং লাইসেন্সও দেওয়া হয় ।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর। প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়েছে। কমিশনিং পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অবস্থায় নিয়ে গিয়ে এর কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে ।

তবে প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ এবং কমিশনিং শুরু হলেও এর অর্থ এই নয় যে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও কমিশনিংয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হবে ।

এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিভিন্ন সময়সূচি জানানো হয়েছিল। তবে কারিগরি বিষয় ও পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে নিরাপত্তা ও কারিগরি মান নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ।

রূপপুর প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রকল্পের অর্থায়নের বড় অংশ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ঋণের মাধ্যমে এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের অর্থায়নে করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনবল, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট সঞ্চালনব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা প্রয়োজন ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ এবং কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।


বি এস নিউজ24

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শামীম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ বি এস নিউজ24