শনিবার (৩ অক্টোবর) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ঘোষণা দেন।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া যে ভূমিসংক্রান্ত ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক আসাদ সবুজ চাঁদাবাজির মামলার আসামি হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।
বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গণমাধ্যম। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানি, নির্যাতন ও মামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাঁরা সাংবাদিকদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন, বেতাগী শাখার সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার ও রাসেল সিকদার এবং প্রেস ক্লাবের সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের।
এদিকে আগামীকাল রোববার বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসাদ সবুজকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (৩ অক্টোবর) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ঘোষণা দেন।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে কথিত চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া যে ভূমিসংক্রান্ত ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিক আসাদ সবুজ চাঁদাবাজির মামলার আসামি হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।
বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গণমাধ্যম। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানি, নির্যাতন ও মামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাঁরা সাংবাদিকদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন, বেতাগী শাখার সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার ও রাসেল সিকদার এবং প্রেস ক্লাবের সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের।
এদিকে আগামীকাল রোববার বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাংবাদিক নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসাদ সবুজকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন