ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বি এস নিউজ24

নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান।

নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা



নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা
নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান

নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা

নোয়াখালী প্রতিনিধি। 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাসকূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে খনন করা ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে’ গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর কূপটিতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিক কারিগরি মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। তবে চূড়ান্ত উৎপাদনক্ষমতা নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সুন্দলপুর-৪ কূপের খননকাজ শুরু হয়। আধুনিক ডিরেকশনাল ড্রিলিং পদ্ধতি ও মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং (এমডব্লিউডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। খননকাজের সময় ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার মধ্যে গ্যাসধারী স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। নির্ধারিত গভীরতায় খনন শেষে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) শুরু করা হয়েছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ, চাপ ও কূপটির উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটুকু উত্তোলন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

নতুন কূপটির অবস্থান সেনবাগ উপজেলায় হলেও এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্রের কাঠামোর অংশ, যার আওতায় এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন কূপটির নাম রাখা হয়েছে সুন্দলপুর-৪। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কূপটির পরীক্ষায় প্রত্যাশিত উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত হলে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কূপটির চূড়ান্ত গ্যাসের মজুত, নিয়মিত উত্তোলন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরুর সময় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল ও বাপেক্সের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Image

বিষয় : নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান

আপনার মতামত লিখুন

বি এস নিউজ24

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট উত্তোলনের সম্ভাবনা

নোয়াখালী প্রতিনিধি। 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাসকূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে খনন করা ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে’ গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর কূপটিতে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রাথমিক কারিগরি মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে। তবে চূড়ান্ত উৎপাদনক্ষমতা নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সুন্দলপুর-৪ কূপের খননকাজ শুরু হয়। আধুনিক ডিরেকশনাল ড্রিলিং পদ্ধতি ও মেজারিং হোয়াইল ড্রিলিং (এমডব্লিউডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। খননকাজের সময় ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার মধ্যে গ্যাসধারী স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। নির্ধারিত গভীরতায় খনন শেষে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) শুরু করা হয়েছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ, চাপ ও কূপটির উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটুকু উত্তোলন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

নতুন কূপটির অবস্থান সেনবাগ উপজেলায় হলেও এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্রের কাঠামোর অংশ, যার আওতায় এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ নামে তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন কূপটির নাম রাখা হয়েছে সুন্দলপুর-৪। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কূপটির পরীক্ষায় প্রত্যাশিত উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত হলে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কূপটির চূড়ান্ত গ্যাসের মজুত, নিয়মিত উত্তোলন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরুর সময় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল ও বাপেক্সের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বি এস নিউজ24

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শামীম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ বি এস নিউজ24