নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৫৭ ছাড়িয়েছে নিখোঁজ ৪০০-এর বেশি।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোতে নদীর পানি উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।
বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোটসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। ভুটে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে স্রোত আশপাশের জনবসতি ও স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বহু মানুষ নিখোঁজ হন এবং অনেক পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়া এবং বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্তর নদীতে নেমে আসার ফলে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও হিমালয় অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধিও এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করছেন।
বন্যায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধার অভিযানও নানা বাধার মুখে পড়ছে। নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ দুর্যোগে বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের খোঁজ নিতে তৎপর হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বিষয় : নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৫৭ ছাড়িয়েছে নিখোঁজ ৪০০-এর বেশি।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রবল স্রোতে নদীর পানি উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।
বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোটসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। ভুটে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে স্রোত আশপাশের জনবসতি ও স্থাপনার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বহু মানুষ নিখোঁজ হন এবং অনেক পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়া এবং বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্তর নদীতে নেমে আসার ফলে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও হিমালয় অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধিও এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করছেন।
বন্যায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধার অভিযানও নানা বাধার মুখে পড়ছে। নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ দুর্যোগে বহু বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের খোঁজ নিতে তৎপর হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক এই ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন