ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য, হেনস্তা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ তোলার ঘটনায় ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চুমকি আক্তারের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় পৃথক চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক সম্পাদক ও তিন সাংবাদিক।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী মডেল থানায় জিডিগুলো করেন সাপ্তাহিক স্বদেশ কণ্ঠের সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান, এনটিভি অনলাইনের ফেনী প্রতিনিধি জাহিদুল আলম রাজন, ৭১ টিভির ফেনী ব্যুরোর ফটোসাংবাদিক আবদুল আল নোমান এবং সাপ্তাহিক ফেনী সমাচারের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার আহমেদ। বিষয়টি ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চার সাংবাদিকের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
জিডিকারীদের অভিযোগ, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চুমকি আক্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। ওই লাইভে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে অপহরণের আশঙ্কা, এ ঘটনায় মামলা করার কথা এবং ভবিষ্যতে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দায়ী করার মতো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি করা সাংবাদিকদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরে চুমকি আক্তারের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়েছেন। এ কারণে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন তারা।
জিডিকারী নুর তানজিলা রহমানের দাবি, চুমকি আক্তার আগে তার সম্পাদিত পত্রিকায় কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগ ও হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ ফেসবুক লাইভের বক্তব্যের পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে চুমকি আক্তার পরবর্তী বক্তব্যে জেলা মহিলা দলের নেত্রী জুলেখা ও জয়নবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও বাজে মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীর বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের পুরো প্রেক্ষাপট, জিডিতে উল্লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চারটি জিডির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত ও যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য, হেনস্তা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ তোলার ঘটনায় ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক চুমকি আক্তারের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় পৃথক চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক সম্পাদক ও তিন সাংবাদিক।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী মডেল থানায় জিডিগুলো করেন সাপ্তাহিক স্বদেশ কণ্ঠের সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান, এনটিভি অনলাইনের ফেনী প্রতিনিধি জাহিদুল আলম রাজন, ৭১ টিভির ফেনী ব্যুরোর ফটোসাংবাদিক আবদুল আল নোমান এবং সাপ্তাহিক ফেনী সমাচারের স্টাফ রিপোর্টার কাওছার আহমেদ। বিষয়টি ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চার সাংবাদিকের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
জিডিকারীদের অভিযোগ, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে চুমকি আক্তার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। ওই লাইভে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও হেনস্তার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে অপহরণের আশঙ্কা, এ ঘটনায় মামলা করার কথা এবং ভবিষ্যতে তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দায়ী করার মতো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি করা সাংবাদিকদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরে চুমকি আক্তারের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়েছেন। এ কারণে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন তারা।
জিডিকারী নুর তানজিলা রহমানের দাবি, চুমকি আক্তার আগে তার সম্পাদিত পত্রিকায় কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগ ও হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ ফেসবুক লাইভের বক্তব্যের পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে চুমকি আক্তার পরবর্তী বক্তব্যে জেলা মহিলা দলের নেত্রী জুলেখা ও জয়নবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও বাজে মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীর বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের পুরো প্রেক্ষাপট, জিডিতে উল্লিখিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চারটি জিডির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত ও যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন