ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
বি এস নিউজ24

সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট

সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট



সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট
সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানোর পর সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে প্রেস ব্রিফিং করেন সাংবাদিক নেতারা।

সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা প্রতিনিধি 

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বিচারাধীন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কনডেম সেল থেকে সরিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ এ আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এবং ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার। নোটিশে বলা হয়েছে, কারা বিধি অনুযায়ী কনডেম সেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত। অথচ বিচারাধীন মামলার আসামি সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে সেখানে রাখার কোনো বৈধ বিচারিক আদেশ নেই বলে দাবি করেছেন নোটিশদাতা পক্ষ। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষার অধিকারের পরিপন্থী। এতে বন্দি মানসিক ও শারীরিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ, বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিক কিংবা সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তার মানবিক মর্যাদা ও আইনগত অধিকার খর্ব করা যায় না। বিচারাধীন বন্দির সঙ্গে আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে অরিত্র কুন্ডুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারাগারে তার অবস্থান ও পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা ৪৭ ও ৪৮ নম্বর মামলায় অরিত্র কুন্ডু বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৫, ১৮৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, অরিত্র কুন্ডু একজন বিচারাধীন আসামি, এখনো দণ্ডপ্রাপ্ত নন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিকে বলেছিলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখলে তার ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ নেতার মদদে তাকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে অরিত্র কুন্ডুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটিতে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Image

বিষয় : সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ড, ঝিনাইদা কারাগার, কনডেম সেল, লিগ্যাল নোটিস, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি

আপনার মতামত লিখুন

বি এস নিউজ24

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সাংবাদিককে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ, ২৪ ঘণ্টায় স্থানান্তর না হলে হাইকোর্টে রিট

ঢাকা প্রতিনিধি 

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বিচারাধীন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখার অভিযোগে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে কনডেম সেল থেকে সরিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ এ আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এবং ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার। নোটিশে বলা হয়েছে, কারা বিধি অনুযায়ী কনডেম সেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত। অথচ বিচারাধীন মামলার আসামি সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে সেখানে রাখার কোনো বৈধ বিচারিক আদেশ নেই বলে দাবি করেছেন নোটিশদাতা পক্ষ। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষার অধিকারের পরিপন্থী। এতে বন্দি মানসিক ও শারীরিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ, বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিক কিংবা সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তার মানবিক মর্যাদা ও আইনগত অধিকার খর্ব করা যায় না। বিচারাধীন বন্দির সঙ্গে আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র এবং কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে অরিত্র কুন্ডুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারাগারে তার অবস্থান ও পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা ৪৭ ও ৪৮ নম্বর মামলায় অরিত্র কুন্ডু বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। দণ্ডবিধির ৪৪৮, ৩৮৫, ১৮৬ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, অরিত্র কুন্ডু একজন বিচারাধীন আসামি, এখনো দণ্ডপ্রাপ্ত নন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিকে বলেছিলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখলে তার ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ নেতার মদদে তাকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে অরিত্র কুন্ডুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটিতে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


বি এস নিউজ24

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শামীম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৫ বি এস নিউজ24