তফসিলভুক্ত রাসায়নিক আমদানিতে অনুমোদন বাধ্যতামূলক
তফসিলভুক্ত রাসায়নিক আমদানিতে অনুমোদন বাধ্যতামূলক, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আইন মেনে চলার আহ্বান। বাংলাদেশে শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রাসায়নিকের মধ্যে কিছু তফসিলভুক্ত রাসায়নিক রয়েছে, যেগুলো যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আমদানি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করলে মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব রাসায়নিক আমদানির পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন National Authority for Chemical Weapons Convention - NACWC এর অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন CWC অনুযায়ী তফসিলভুক্ত রাসায়নিক আমদানি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের নিবন্ধন, অনুমোদন এবং তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদন ছাড়া তফসিলভুক্ত রাসায়নিক আমদানি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে কেমিক্যাল দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ, বিষক্রিয়া ও পরিবেশ দূষণের মতো ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই রাসায়নিক আমদানিকারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে । বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সংরক্ষণ, সঠিক পরিবহন ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে কেমিক্যাল দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা । বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ সকল আমদানিকারক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তফসিলভুক্ত রাসায়নিক আমদানির পূর্বে যথাযথ অনুমোদন গ্রহণ করুন, আইন মেনে চলুন এবং কেমিক্যাল দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।