ফেনী জামায়াতের নেতৃত্বে আবারও মুফতি আবদুল হান্নান, পুনর্নির্বাচনের পেছনে অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা
ফেনী জামায়াতের নেতৃত্বে আবারও মুফতি আবদুল হান্নান, পুনর্নির্বাচনের পেছনে অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতানিজস্ব প্রতিবেদকবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা শাখার আমির হিসেবে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন মুফতি মাওলানা আবদুল হান্নান। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক কার্যকালের জন্য তাঁকে পুনর্নির্বাচিত করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দেশের ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁদের নাম ঘোষণা করেন।এর আগে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর ফেনী জেলা জামায়াতের দুই দিনব্যাপী রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলার প্রায় দুই হাজার নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে ভোট দেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে মুফতি আবদুল হান্নানের নাম ঘোষণা করা হয়।মুফতি আবদুল হান্নানের সাংগঠনিক পথচলাও বেশ দীর্ঘ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেনী শহর জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা সেক্রেটারির। ২০২৪ সালে তিনি ফেনী জেলা জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন। ফলে শহর পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁর পুনর্নির্বাচনের পেছনে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, দলীয় কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং রুকনদের আস্থার বিষয়গুলো ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলীয়ভাবে পুনর্নির্বাচনের নির্দিষ্ট কারণ কিংবা ভোটের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়কে সম্ভাব্য সাংগঠনিক বিবেচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।এদিকে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফেনী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবেও মুফতি আবদুল হান্নানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতেও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। আগামী দুই বছরের জন্য তাঁর পুনর্নির্বাচন ফেনী জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন কার্যকালে ফেনী জেলার ছয় উপজেলা, পাঁচ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দলের অবস্থান আরও সুসংহত করা তাঁর নেতৃত্বের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।