ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৬০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও ক্যাবল চুরি, ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন নতুন ভবন
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৬০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও ক্যাবল চুরি, ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন নতুন ভবনমোহাম্মদ শামীম হোসেন, ফেনী। ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রায় ৬০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নতুন ভবনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেরা।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের নতুন ভবনের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে প্রবেশ করে ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং তামার বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ট্রান্সফরমার ও বড় জেনারেটরের যন্ত্রাংশ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং বড় জেনারেটরটির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তবে চুরি হওয়া সব যন্ত্রাংশ ও ক্যাবলের মোট ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এখনো নিরূপণ করা হয়নি।চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে আইসিইউ, মেডিসিন, আইসোলেশন ও সার্জারি ওয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় বলে জানা গেছে।এদিকে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ক্যাবল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চুরির ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া সরকারি সম্পদ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কতজন জড়িত, চুরি হওয়া মালামালের প্রকৃত মূল্য কত এবং হাসপাতালের নিরাপত্তায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।