মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তবুও থামছে না শিকার
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তবুও থামছে না শিকারমোঃ শামীম হোসেন। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সারা দেশে ২২ দিনের জন্য মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন নদীতে মা ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকায় ইলিশের বংশবিস্তার ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চললেও কিছু এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বিক্রির ঘটনা সামনে আসছে।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা মাছকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধরা পড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার সময় ১৫ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ জনকে ১৬ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং একজনকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই দিনে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের অভিযোগে নৌপুলিশের অভিযানে জেলে আটক, নৌকা, অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ মাছ জব্দের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর এবং মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় নদীতে মাছ ধরা ও বিভিন্ন ঘাটে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও ডিমওয়ালা ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর এসব পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, শুধু নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; অবৈধভাবে ধরা মাছের পরিবহন, মজুত, আড়ত ও বাজারে বিক্রি বন্ধেও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন ।
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকৃত জেলেদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ, নদীর দুর্গম এলাকায় নিয়মিত অভিযান এবং মাছ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ইলিশ দেশের অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সাময়িক লাভের আশায় মা ইলিশ নিধন বন্ধ করে প্রজনন মৌসুমে মাছকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া সবার দায়িত্ব। সম্মিলিত উদ্যোগ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।