কোটি টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জামিন পেলেন কালবেলার সাংবাদিক আসাদ সবুজ
মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় জামিন পেলেন কালবেলার সাংবাদিক আসাদ সবুজ। বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা ও সাজানো মামলায় দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস শুনানিতে অংশ নেন।এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় তাকে ছাড়াও আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকেই মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও সাজানো দাবি করে সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল।আসাদ সবুজের পক্ষে আদালতে কয়েক দফায় জামিন আবেদন করা হয়। গত ৪ অক্টোবর জামিনের আবেদন করা হলে প্রথমে ৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করা হয়। পরবর্তীতে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানি করার জন্য তা পিছিয়ে ৭ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।মামলাটি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে হয়রানি এবং তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মামলাটি সাজানো হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, স্থানীয় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও কয়েকটি পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিক আসাদ সবুজ অনুসন্ধান করছিলেন। এরই জেরে তাকে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।এদিকে, আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বরগুনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের পর সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আসাদ সবুজের জামিনকে তারা প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে সাজানো মামলাটি থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি পাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।তবে আদালতে জামিন পাওয়ার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান থাকবে। চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং মামলার পেছনের ঘটনা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের খবরে বরগুনার সাংবাদিক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো একই সঙ্গে সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ এবং আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।