মানবতার সেবার আড়ালে নানা অভিযোগ, আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার
মানবতার সেবার আড়ালে নানা অভিযোগ, আলোচনায় মিল্টন সমাদ্দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায়, দরিদ্র, শিশু ও বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ করে পরিচিতি পাওয়া মিল্টন সমাদ্দারকে ঘিরে একসময় ব্যাপক প্রশংসা থাকলেও পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে নানা গুরুতর অভিযোগ। তিনি ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং অসহায় মানুষদের আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হয়ে ওঠেন।তবে ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল মৃত্যুসনদ তৈরি, মানবপাচার, নির্যাতন ও অবৈধভাবে মানুষ আটকে রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১ মে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, অসহায় মানুষদের সেবার কথা বলে অর্থ গ্রহণ ও সেই অর্থের অপব্যবহার, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নির্যাতনমূলক আচরণ এবং শিশু পাচারের অভিযোগ। একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, একটি শিশুকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য অর্থ নেওয়ার পর পরবর্তীতে শিশুটিকে তাঁর স্বজনদের না জানিয়ে বিক্রি বা পাচার করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো পৃথক বিষয়।এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তিদের জাল মৃত্যুসনদ দেওয়ার অভিযোগে মামলাও করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে মৃত্যুসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছিল।মানবপাচারের মামলায় ২০২৪ সালের মে মাসে আদালত তাঁকে রিমান্ডে পাঠান। পরবর্তীতে ১৫ জুলাই ২০২৪ ঢাকার একটি আদালত তাঁকে সব মামলায় জামিন দেন।তবে তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল অসহায় মানুষের জন্য সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। একই সঙ্গে কিডনি বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৯ মে ডিবি জানায়, কিডনি বিক্রির অভিযোগের পক্ষে তখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ওঠা অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে প্রশংসিত এই ব্যক্তি পরবর্তীতে এতগুলো গুরুতর অভিযোগের কারণে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ফলে মিল্টন সমাদ্দারের কার্যক্রম ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে আসে।