বাগেরহাটের শরণখোলায় ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা
বাগেরহাটের শরণখোলায় ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবা । বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় মাহমুদুল হাসান নামে এক ব্যক্তি ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং বৈধ সনদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বৈধ বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) নিবন্ধন নেই। তারপরও তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা প্রদান করছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে । সূত্র জানায়, এর আগেও একই অভিযোগে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। হেলাল খান নামে এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় তিনি ২১ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেন। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার পরও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি; বরং আগের মতোই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন । গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শরণখোলায় অভিযান চালিয়ে তার কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপরও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে, গত ৪ মে ২০২৬ বিকেলে সাংবাদিকরা তার চেম্বারে গিয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে এক ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। সেখানে তার পক্ষ নিয়ে উপস্থিত হন এক রাজনৈতিক দলের নেতা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকেই তিনি এই অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।